নামায

নামায

Namaz

সলাতের কথা পবিত্র কুরআনে ৮২ বার উল্লেখ করা হয়েছে। অসংখ্য হাদীস দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, সলাত ইসলামের মূল স্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। সলাত কাফির ও মুসলিমের মধ্যে পার্থক্যকারী। হাশরের মাঠে সর্বপ্রথম হিসেব নেয়া হবে সলাতের। সলাত কবুল না হলে অন্যান্য আমাল বৃথা। সলাত জীবনকে সুশৃঙ্খল করে। সলাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সেতু বন্ধন হয়।

সলাতের মাধ্যমে প্রতিদিন পাঁচবার এই অনুভূতি জাগ্রত হয় যে, আল্লাহর দাসত্ব করাই মানুষের জীবনের সর্বপ্রথম ও সর্ব প্রধান কাজ। তাই সলাতের উদ্দেশ্য জানতে হবে, এর প্রয়োজন বুঝতে হবে, সঠিক পদ্ধতিতে পালন করতে হবে, এর শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় এ সলাত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজ প্রায় শতকরা ৯০ জন মুসলিমই সলাতকে অমান্য করে চলেছে।

যেসব মুসলিম সলাত আদায় করছেন তাদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া মুশকিল এমন লোক যারা সলাতের উদ্দেশ্য ও শিক্ষা বুঝে যত্নসহকারে আদায় করছেন। উল্লেখ্য আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে সলাত শুধু নিজে আদায় করার জন্য বলেননি বরং কায়িম (প্রতিষ্ঠা) করার জন্য বলেছেন। অথচ সলাত আদায়কারীরা এ সম্পর্কে চরম উদাসীন। তাই এসব প্রয়োজন ও তাকিদ অনুভব করে কুরআন ও হাদীসের দলীলের ভিত্তিতে সলাত অমান্য ও দুনিয়া ও আখিরাতে ভয়াবহ শাস্তি নামক এই পুস্তকটিতে এমন সব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, সকল মুসলিম যাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত সময়মত ও জামা’আতের সঙ্গে আদায় করে। সলাতের উদ্দেশ্য ও শিক্ষা গ্রহণ করে। যত্নসহকারে সলাত সম্পন্ন করে বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করে। কেননা সলাতে মানুষের বহুবিধ উপকার সাধিত হয়।

নামায সংক্রান্ত হাদীস:

* নবী করিম (সাঃ) বলেছেনঃ “ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ছেড়ে দেয়া।” (মুসলিম হাঃ ১৫৪)

* রুরাইদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমাদের এবং কাফিরদের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত, অতএব যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরী করল।” (নাসাঈ, ই.সে. হাঃ৪৬৪)

* একদা নবী (সাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমার কখনো ইচ্ছা হয় যে, একজনকে দিয়ে সালাত শুরু করিয়ে দেই এবং তারপর যারা সালাতে হাযির হয়না আমি পেছন দিয়ে গিয়ে তাদের ঘরে আগুন লাযিয়ে দেই। (তিরমিযী হাঃ ২০৮)

This entry was posted in নামায শিক্ষা. Bookmark the permalink.